একটু অপেক্ষা...
images (1)

আতরচি যখন গোয়েন্দাচি!!!

গত দুই-তিনদিন ধরেই, সারাক্ষণই যেনো নাকের মাঝে ফুলের বাগান কাজ করে! যারা পেইজে নিয়মিত আপডেট রাখেন, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন, আমি বলতে চাচ্ছি যে “ব্লু লেডি”র ঘ্রাণ পেয়েই যাচ্ছি, পেয়েই যাচ্ছি! বাসায় যেখানে যাই সেখানেই, কম্পিউটার এর সামনে বসলেও, নিজের বিছানাতেও, এমনকি রেফ্রিজারেটর থেকে ঠান্ডা পানি বের করে ঢকঢক করে গিলবার সময়-ও….!!!

প্রতিবার ঘ্রাণ টের পাবার সময়ে মনটা সেই ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে উঠলেও খটকা লাগছিলো, যে, সব জায়গায় কিভাবে! ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের একখানা তদন্ত কমিটি গঠিত হয় ( বুঝতেই পারতেছেন সদস্য টা কে??  )

প্রথমেই চলে গেলাম আমার আস্তানা, দুই তলায়! যারা এসেছেন বাসায়, তারা সব্বাই জানেন, বাড়ির দুই তলাটা আতরচি দখল করে রেখেছে পারফিউমেন্সের গোডাউন হিসেবে  মূল উৎস সেখানেই হবে, বিজ্ঞ গোয়েন্দাচী প্রথমেই তা আঁচ করে ফেলেছিলেন! কিন্তু কইইই! সেথা সব পারফিউমের ঘ্রাণ মিলিয়ে মন মাতানো একখানা ঘ্রাণের সৃষ্টি হলেও, ব্লু লেডির “তীব্র বাতাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়া নানান জাতের ফুলের ঘ্রাণ” ত পাওয়া যাচ্ছে না!

এইবার গোয়েন্দাচী আগালো এইটার ক্যানের দিকে, সতর্ক চোখে পরখ করতে লাগলো। হ্যাআআ! এই তো ক্যানের নিচের মার্বেল পাথর চমকাচ্ছে খানিকটা!! নাক কাছে আনতেই বাজিমাত…

পরের দৃশ্য, গোয়েন্দাচী এবং তার ছোট ভাই রাইয়্যান( পারফিউমেন্সের অন্যতম সাহায্যকারী, ক্লাস ৩ পড়ুয়া বাচ্চা) । রাইয়্যানকে প্রথম জিজ্ঞাসা, ওহে, তুমি ধরছিলা ব্লু লেডি? এরপরে সে গড়গড় করে বলে দেয়, সে কি এক কাজে বোতলগুলোকে গোছাচ্ছিল, সেই সময়ে হাত লেগে পড়ে যায় অল্প কিছু ব্লু লেডি, কয়েক মিলিই হবে। আতরচি যাতে টের না পায় সেই কারণে সে নিজ জামা দিয়েই পারফিউমটুকু মুছে নেয় ( যা তাহার আতরচি ভাই দ্বারাও মাঝে মাঝেই হয় :-P) । আর এই কারণেই, গত দুই তিনদিন সে বাসায় যেই যেই জায়গায় ছিলো, সেগুলাও সুঘ্রানিত হয়ে গেছে!!

Beard Oil মাখা দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে গোয়েন্দাচী ভাবের সাথে বলে উঠে, যা ভেবেছিলাম আর কি!

Leave a Reply