একটু অপেক্ষা...
maxresdefault-01

গাজর থেরাপি, এর ম্যারিজি ভার্সন ও নতুন চমক

<== গাজর থেরাপী ==>
এক খরগোশ প্রতিদিন এক মুদির দোকানে গিয়ে বলত, “গাজর আছে গাজর??”
দোকানদার বার বার “না নেই” বলার পরও সে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করত, “গাজর আছে গাজর??”
দোকানদার প্রতিবার রেগে বলত, “না নেই”।
একদিন খরগোশ গিয়ে বরাবরের মত জিজ্ঞেস করল, “গাজর আছে গাজর?”
দোকানদার তাকে রেগে বলল, “আর একবার যদি এই কথা জিজ্ঞেস কর তাহলে হাতুড়ি দিয়ে সব দাঁত ভেঙ্গে দিবো।“
এক ঘণ্টা পর খরগোশ আবার আসলো। এসে এবার জিজ্ঞেস করল “হাতুড়ি আছে?”
দোকানদার বলল, “না নেই”
খরগোশঃ “তাহলে গাজর আছে?”
দোকানদার রাগে দুঃখে দোকান ছেড়ে পালালো।

পরের দিন দোকানদার হাতুড়ি নিয়ে দোকানে গেলো।
খরগোশ এসে জিজ্ঞেস করল, “গাজর আছে গাজর?”
এবার রেগে দোকানদার হাতুড়ি দিয়ে খরগোশের দাঁত ভেঙ্গে ফেলল।
তারপর …
তারপর খরগোশ গিয়ে পরের দিন মুদির দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “গাজরের জুস আছে?!”
দোকানদার অজ্ঞান হয়ে পরে গেল!!!

<==গাজর থেরাপির গা জ্বালা সাফল্যঃ ( পার্ট-১) ==>

এক ম্যারিজি প্রতিদিন এক বাবা মার কাছে গিয়ে বলত, “তোমাদের কি পোলার বউ দরকার নেই ??”
বাবা মা বার বার “না নেই” বলার পরও সে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করত, “কি দরকার নেই ? ” বাবা মা প্রতিবার রেগে বলত, “না নেই”।

একদিন ছেলে(নাকি লোক?! ) গিয়ে বরাবরের মত জিজ্ঞেস করল, “কি গো , আমাকে বিয়ে দেওয়ানোর কোন প্ল্যান নেই ?” বাবা মা তাকে রেগে বলল, “আর একবার যদি এই কথা জিজ্ঞেস কর তাহলে ত্যাজ্যপুত্র করে দিবো ।“
এক ঘণ্টা পর ছেলে আবার আসলো। এসে এবার জিজ্ঞেস করল “ত্যাজ্যপুত্র করবা যে, উকিলের কাগজপত্র রেডি আছে?”
বাপ মা বলল, “না নেই”
ছেলে : “তাহলে আমারে বিয়ে করানোর প্ল্যান আছে?”
বাবা মা রাগে দুঃখে রুমে গিয়ে দরজা আটকালো।

পরের দিন বাবা উকিলের কাগজ নিয়ে রেডি থাকলো। ছেলে এসে এসে জিজ্ঞেস করল, “প্ল্যান আছে, প্ল্যান ?” এবার রেগে বাপমা ছেলের হাতে ত্যাজ্যের কাগজ ধরায় দিলো।
তারপর … তারপর ছেলে তার আরেক ম্যারিজি ফ্রেন্ডের বাসায় উঠলো। পরের দিন তার বাবা মা ফোন দিলো, ” সোনা মানিক আমার, বাসায় ফিরে আয়, ইসলামে ত ত্যাজ্যপুত্র করার কুনো সিস্টেম ই নাই “…
ছেলে ফোনেই জিজ্ঞেস করলো, “বাসায় যে আসবো, ছেলের বিয়া দেওনের জন্য পাত্রী খুজছো ত ?!?”

অপর প্রান্তের হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া গেলো। গার্জিয়ান নিজেও পড়ে গেলেন কি না, কে জানে!!

<==গাজর থেরাপির মন ভালো করা সাফল্যঃ ( পার্ট-২) ==>

আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই ম্যারিজি ভাইএর বিবাহ সম্পন্ন হলো, অবশেষে। আল্লাহর উপর ভরসা করে ফেত্না হইতে নিজকে সংযত রাখা ভাইটি তার যোগ্য সঙ্গিনীকেই পেয়েছিলেন হয়তো। “তাহাজ্জুদে ডাক দেয় নি বলে স্বামীর সাথে সারাদিন রাগ করে থাকা মানুষটি”র রাগ ভাঙ্গানোর হাতিয়ার হিসেবে দুখানা ইসলামিক বই আর এক গুচ্ছ লালচে গোলাপ উপহার কিনতে কিনতে তিনি বোধহয় মনে মনে পরওয়ারদিগারের নিকট শুকরিয়াই জানাচ্ছিলেন, এমন একজন মানুষকে তার চক্ষুশীতলকারিনী বানানোর জন্য।

তো, বিয়ের পর থেকেই ম্যারিজি ভাইএর বাবা-মা মাঝেমধ্যেই বলতেন, “ কি রে, তোর কি হানিমুনে যাবার প্ল্যান নেই”? তিনি মুচকি হেসে ব্যাপারটা কেবল এড়িয়েই যেতেন। সময় গড়ালেও গার্জিয়ানের জিজ্ঞাসা থামে না। “ কবে তোর মধুচন্দ্রিমা, কবে তোর মধুচন্দ্রিমা” – প্রতিদিন ভাইটি যখন প্রস্তুত হতেন নিজ ছোট্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য, বাবা-মা এর সেই প্রশ্নকে বার বার তার পাশ কাটিয়ে যেতে হতো।

একদিন যখন বাবা জিজ্ঞাসা করলেন আবার, “কি রে ব্যাটা, যাবি না?” তখন ছেলে খানিকটা হেসে দিয়ে ঘোষণা দিলো, আর যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিবে। বাবা-মা ভাবলো ছেলে বোধহয় মজা করেই ছেলেমানুষী কথা বলেছে, তাই পরদিন খাবার টেবিলে আবারো একই বিষয়ের অবতারণা। ফলাফল? ছেলের দেড় দিন যাবত অনশন প্রোজেক্ট । বাবা-মা দীর্ঘদিন এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা ছেড়ে দিলেন।

বেশ কিছু বছর কেটে গেলো। হঠাৎ একদিন , সেই খাবার টেবিলেই , ছেলে মহাশয় বলে বসলো, “ কি গো, তোমরা তো অনেকদিন হলো আমার মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করো না” ; তখন মা খানিকটা ভয়ে ভয়ে বললেন “ তুই আবার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিবি না তো” ?! ছেলে আশ্বস্ত করার পর তারা জিজ্ঞাসা করলেন আবার, “ কি রে, কবে যাবি?” । ছেলে পকেট থেকে চারটে এয়ার টিকেট আর পাসপোর্ট বের করলো। ঢাকা টু জেদ্দা। পাশে হাজ্জ ম্যানেজমেন্টের সিল লাগানো। আস্তেআস্তে বললো, “ নিয়্যাহ ছিলো বহু আগের ; অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এবার তাই চারজনে মিলে পবিত্র হাজ্জ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম। আব্বা আম্মা, তুমিই বলো, হানিমুনে যাবার চাইতে এই ফরজ কাজটে সম্পন্ন করা কি অধিক জরুরী, অধিক বরকতময় নয়”?

বাবার হাত থেকে রুটির টুকরো আর চোখ থেকে বারি-ধারা , দুটোই একসাথে গড়িয়ে পড়ল..

Leave a Reply